শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৩

মদীনা হল প্রতিমা মুক্ত



মদীনা হল প্রতিমা মুক্ত

মক্কা থেকে মদীনায় প্রেরিত রাসূলুল্লাহ (সা)- এর দা'--ইসলাম হযরত মুস'য়াব ইবন উমাইরের (রা) হাতে নবুওয়াতের দ্বাদশ বছরে হযরত মু'য়াজ যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তাঁর বয়স ১৮ বছর
আকাবার তৃতীয় বাইয়াত শেষে মু'য়াজ যখন মক্কা থেকে মদীনায় ফিরলেন, ঈমানী আবেগে তাঁর অন্তর তখন ভরপুর মদীনায় ফিরে তিনি এবং তাঁর মত আরও কিছু যুবক সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁরা প্রকাশ্যে বা গোপনে যেভাবেইহোক মদীনাকে প্রতিমামুক্ত করবেন তাঁদের এই আন্দোলনের ফলে হযরত 'আমর ইবনুল জামূহ প্রতিমা পূজা ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন এই চমৎকার ঘটনাটি- আজ আপনাদের কাছে তুলে ধরা হলঃ-

'
আমর ইবনুল জামূহ ছিলেন মদীনার বনু সালামা গোত্রের অতি সম্মানিত সর্দার অন্য নেতাদের মত তাঁরও ছিল একটি অতি প্রিয় কাঠের প্রতিমা প্রতিমাটির নাম ছিল মানাত এই প্রতিমাটির প্রতি ছিল 'আমরের অত্যাধিক ভক্তি শ্রদ্ধা তিনি অতি যত্ন সহকারে সুগন্ধি মাখিয়ে রেশমী কাপড় দিয়ে সেটি সব সময় ঢেকে রাখতেন

মক্কা থেকে ফেরা এই তরুণরা রাতের অন্ধকারে একদিন চুপে চুপে মূর্তিটি তুলে নিয়ে বনু সালামা গোত্রের ময়লা-আবর্জনা ফেলার গর্তে ফেলে দেয়

সকালে ঘুম থেকে উঠে 'আমর ইবন জামূহ যথাস্থানে প্রতীমাটি না পেয়ে খোঁজা-খুঁজি শুরু করলেন এক সময় ময়লা-আবর্জনার স্তূপে প্রতীমাটি মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখে ব্যথিত কন্ঠে বলেনঃ তোমাদের সর্বনাশ হোক! গত রাতে আমার ইলাহ' সাথে কারা এমন আচরণ করলো? তিনি প্রতিমাটি সেখান থেকে তুলে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে আতর-সুগন্ধি লাগিয়ে আবার যথাস্থানে রেখে দিলেন প্রতীমাকে সম্বোধন করে বললেনঃ ওহে মানাত , আমি যদি জানতাম, কারা তোমার সাথে এমন আচরণ করেছে!

পরদিন রাতে আবার একই ঘটনা ঘটনা ঘটলো সকালে 'আমর খুঁজতে খুঁজতে অন্য একটি গর্ত থেকে প্রতীমাটি উদ্ধার করে ধুয়ে মুছে আগের মত রেখে দেন

পরের রাতে একই ঘটনা ঘটলো তিনিও আগের মত সেটি কুড়িয়ে এনে একই স্থানে রেখে দিলেন তবে দিন তিনি প্রতীমাটির কাঁধে একটি তরবারি ঝুলিয়ে দিয়ে বলেনঃ
"
আল্লাহর কসম! তোমার সাথে কে বা কারা এমন আচরণ করছে, আমি জানিনে তবে তুমি তাদের দেখেছো হে মানাত, তোমার মধ্যে যদি কোন ক্ষমতা থাকে তুমি তাদের থেকে আত্মরক্ষা কর এই থাকলো তোমার সাথে তরবারি"

রাত হলো তরুণরা আজও এলো তারা প্রতীমার কাঁধ থেকে তরবারি তুলে নিয়ে একটি মৃত কুকুরের সাথে সেটি বাঁধলো তারপর প্রতীমাসহ কুকুরটি একটি নোংরা গর্তে ফেলে চলে গেল

'
আমর সকালে খুঁজতে বেরিয়ে মূর্তিটির এমন দশা দেখে তাকে লক্ষ্য করে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন তার প্রথম লাইনটি এমনঃ
'
আল্লাহর কসম! তুমি যদি সত্যি- ইলাহ হতে তাহলে এমনভাবে কুকুর তুমি এক সাথে গর্তে পড়ে থাকতে না'

এভাবে 'আমর ইবন জামূহ মূর্তিপূজার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন

(
তথ্যসূত্রঃ আসহাবে রাসূলের জীবনকথা-)

»»
পোস্টটি শেয়ার করে ইসলামের এই আদর্শের দাওয়াত সবার কাছে পৌছে দিন আল্লাহ আমাদের সকলকে সাহাবায়ে কিরাম (রা)-দের পদাঙ্ক অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন আমীন

হযরত ওমর (রাঃ) এর শাসন আমল। কাদেসিয়ার যুদ্ধে যোগদানের পূর্বে মা তার চার পূত্র সন্তানকে উপদেশ দিচ্ছেনঃ



হযরত ওমর (রাঃ) এর শাসন আমল। 
কাদেসিয়ার যুদ্ধে যোগদানের পূর্বে মা তার চার পূত্র সন্তানকে উপদেশ দিচ্ছেনঃ


হে আমার কলিজার টুকরা বৃন্দ, তোমরা আনন্দ চিত্তে মুসলমান হয়েছ এবং হিজরত করেছ। সেই সত্ত্বার শপথ, যে সত্ত্বা ব্যতিত অন্য কোন মা'বুদ নেই। যেভাবে তোমরা এক মায়ের গর্ভ হতে জন্মলাভ করেছ, সেই ভাবে তোমরা একই পিতার সন্তান। তোমাদের পিতা ভিন্ন অন্য কোন পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি। তোমাদের বংশ গৌরবের উপরও আমি কোন কলংক লেপন করিনি। তোমাদের জানা আছে আল্লাহর পথে জিহাদ করার কত সাওয়াব। এ দুনিয়া তো অস্থায়ী, এবং পরকালের জীবন এরচেয়ে অনেক উত্তম। তোমাদের সকলকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে। কিন্তু বীরের ন্যায় মৃত্যু বরণ করাই সবোর্ত্তম।

আগামীকাল প্রত্যুষে তোমাদের যুদ্ধের ময়দানে যেতে হবে। তোমরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মুজাহিদ বেশে, বীর বিক্রমে যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে উপস্থিত হও। আল্লাহর দুশমনদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে সম্মুখে আগ্রসর হও। যুদ্ধের লেলিহান শিখা যখন দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকবে, তোমরা তখন বীর বিক্রমে শত্রু বাহিনীর উপর পঙ্গপালের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়বে।

অতঃপর দ্বিতীয় দিন যুদ্ধ শুরু হলে জোয়ানদের মধ্যে সকলেই এক এক করে সম্মুখে অগ্রসর হতে লাগলেন। যখন একজন শহীদ হয়ে যায় তখন দ্বিতীয়জন সম্মুখে আগ্রসর হয়। পুত্রগণ মায়ের উপদেশ অনুযায়ী ইসলামের জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করার নিমিত্তে যুদ্ধের অনল কুন্ডে ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগল। এদিকে তাঁদের মাতা বীরত্ব মূলক কবিতা আবৃত্তি করে তাদের প্রেরণা যোগাতে লাগলেন। 

পরিশেষে তাঁর চার পুত্র আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে গেল।
বেলা শেষে সন্ধাকালে যুদ্ধের অবসান হলে হযরত খানসা (রা) যখন জানতে পারলেন তাঁর চার পু্ত্রই আল্লাহর রাহে শহীদ হয়ে গেছে তখন তিনি দুঃখ, শোক ও অসন্তুষ্টি প্রকাশের পরিবর্তে বললেন, আল্লাহর শোকর! আমার স্রস্টা ও মালিকের নিকট তাঁর আমানতকে সুন্দর ভাবে পৌঁছাতে পেরেছি। হে আমার প্রভূ যদি আমার এ পুত্রগন ব্যতীত আমার আরও কোন পুত্র থাকত, তবে আমি তাদেরকেও তোমার পথে পেশ করতে কুন্ঠিত হতাম না। হে আল্লাহ! তুমি তাঁদেরকে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করিয়েছ এজন্য তোমার দরবারে লক্ষ কোটি শুকরিয়া আদায় করছি।

এই হল মুসলিম রমনীর ঈমানী শক্তি। তিনিও একজন মা। আজ বিশ্বে তাঁর মত মায়ের ভীষন প্রায়োজন।